শীলভদ্রের শিক্ষালয় (Shilvodrer Shikshalaya) | Ripon Das | Bengali Story

পর্ব ০১(ইতিহাসের দেশে ভ্রমণ)
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়। ছোটোবেলায় ইতিহাস বইতে দেখেছিলাম উচু একটা তিনকোনা ঢিপি মতন বস্তু।সাদাকালো ছাপা। তলায় লেখা ছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়।
সেই প্রাচীন ও মহান বিশ্ববিদ্যালয়  স্বচক্ষে দেখার ইচ্ছে টা পূর্ণ হয়েছিল 2016 সালে কলেজ ট্যুরে।বিশ্বের এক শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়।ঢোকার মুহূর্তে মাথা নিচু করে প্রনাম করে নিলাম।চোখের সামনে ইটের সূক্ষ্ম কারুকার্যময় অসংখ্য ভগ্ন সৌধের স্তূপ।সুবিশাল প্রস্তর, ঘাসে ঢাকা,বৃক্ষময়,প্রানময় এই প্রতিষ্ঠানে ওঠানামার সারি সারি বাঁধানো সিড়ি।ঢাকার বিক্রমপুরের অতীশ দীপঙ্কর, যশোরের রাজকুমার শান্ত রক্ষিত,হিউ-এন-সাঙ এই নালন্দাতেই শিক্ষা গ্রহন করেছেন।আমি নালন্দার প্রতিটি দেওয়াল স্পর্শ করছি আর চোখটা ছলছল করে উঠেছিল ইতিহাসের কল্পনাই,আর  মনে মনে ভেবেছিলাম এই ছিলো আমার প্রাচীন ভারতের গর্ব।
নালন্দা নামের উত্পত্তি,চীনা তীর্থযাত্রী হিউয়েন সাং-এর মতে, এই নামটি এসেছে “ন অলম দা” কথাটি থেকে। এই কথাটির অর্থ “উপহার দানে যার বিরাম নেই” বা “অবিরত দান”।
নালন্দা অর্থাৎ প্রস্ফুটিত পদ্ম…. যার বুকে থাকে সৌরভ ও মধু…. সেই জ্ঞানালোক রূপী  মধু ও তার সৌরভে একদা বিশ্বকে আমোদিত ও আলোলিক  করেছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়….
গুপ্তরাজ কুমার গুপ্তর সময় তৈরী হয়, এই বিদ্যালয়….তার পর কালে কালে তার কলেবর বৃদ্ধি পায় হর্ষবর্দ্ধন ও পাল বংশের রাজাদের হাতে।
পাঁচের শতক থেকে প্রায় বারশো শতক পর্যন্ত ভারতবর্ষ তথা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল এই নালন্দা…..
প্রায় ১০০০০ ছাত্র ও ২০০০ শিক্ষক এই প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা করতেন….
শিক্ষার দিক দিয়ে বিশ্বের সবকয়টি দেশের তালিকায় ভারত আজ ১৪১ তম অবস্থানে থাকলেও এখানে একসময় ভারত ছিল বিশ্বের জ্ঞানের উৎস। বর্তমানে শত শত শিক্ষার্থীর উপর কেবলমাত্র একজন শিক্ষক পাওয়া যায়, যেখানে কয়েকশো বছর আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় দিনগুলিতে এতে ১০০০০ জন শিক্ষার্থী এবং ২ হাজার শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা প্রতি ৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে কেবল একজন শিক্ষক …
 এটি প্রাচীন ভারতের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিখ্যাত কেন্দ্র ছিল।   আলেকজান্ডার কানিংহাম কর্তৃক আবিষ্কৃত এই মহান বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষটি এর প্রাচীন সৌন্দর্যের অনেক কিছুই প্রকাশ করে।  সপ্তম শতাব্দীতে বহু লিপি এবং ভারতের ইতিহাস, যা চীনা ভ্রমণকারী হিউয়েন সাং এখানে ইতিহাস পড়তে এসেছিলেন, যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেন। এখানে ১০,০০০ এর অল্পাধিক শিক্ষার্থীকে পড়ানোর জন্য ২৭০০ জন শিক্ষক ছিলেন।  খ্যাতিমান চীনা ভ্রমণকারী  হিউয়েন সাং এখানে সপ্তম শতাব্দীতে ছাত্র এবং শিক্ষক হিসাবে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর অতিবাহিত করেছিলেন।  বিখ্যাত ‘বৌদ্ধ সারিপুত্র’ এখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
 নালন্দার আটটি পৃথক প্রাঙ্গণ এবং ১০ টি মন্দির এবং অন্যান্য কয়েকটি মেডিটেশন হল এবং শ্রেণিকক্ষ ছিল।  ৯ তলা ভবনে একটি পাঠাগার ছিল, যেখানে ৯০ লক্ষ পুঁথিসহ কয়েক মিলিয়ন বই ছিল।  কেবল ভারত নয়, কোরিয়া, জাপান, চীন, তিব্বত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, গ্রীস, মঙ্গোলিয়া এবং অন্যান্য অনেক দেশের শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসেছিল।  এবং সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হ’ল সেই সময়কালে এখানে সাহিত্য, জ্যোতিষ, মনোবিজ্ঞান, আইন, জ্যোতির্বিজ্ঞান, বিজ্ঞান, যুদ্ধ, ইতিহাস, গণিত, আর্কিটেক্ট, ভাষাবিজ্ঞান, অর্থনৈতিক, মেডিসিন সহ অনেকগুলি বিষয় পড়ানো হত।
 প্রায় ৮০০ বছর ধরে অস্তিত্ব থাকার পরে, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ক্ষুধার্ত-নগ্ন, অসম্পূর্ণ, মানব-ভক্ষকদের নজর কেড়েছে।  ১১৯৩ সালে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়টি বখতিয়ার খিলজির অধীনে অটোমান মুসলিম হানাদার বাহিনী ধ্বংস করে দেয়।  পার্সিয়ান ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ তাঁর তাবকত-ই-নাসিরি গ্রন্থে লিখেছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়টি ধ্বংস করার সময় ১০০০  সন্ন্যাসীকে জীবিত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ১০০০ এর অধিক ভিক্ষুদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল।  গ্রন্থাগারটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।তৎকালীন ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন যে গ্রন্থাগারের বইগুলি প্রায় ৬ মাস ধরে জ্বলতে থাকে  এবং জ্বলন্ত পান্ডুলিপিগুলির ধোঁয়া একটি বিশাল পর্বতের রূপ নিয়েছিল।
4 10 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
3 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Kuttush
Kuttush
8 months ago

Sei dada darun osadharon

TUSHAR SEN
TUSHAR SEN
8 months ago

Sera

Bibek Ray
Bibek Ray
8 months ago

ইতিহাসের গন্ধটা বেশ আছে এই লেখায় । চমৎকার