~ফুচকার পার্টনার~ (Phuchkar partner) | Shreya Paul

আমি ও আমার বন্ধু কৌশিক একদিন রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে এক ফুচকার দোকানে এসে দাঁড়াই। মনটা খুব ঝাল খাওয়ার ইচ্ছা করছিল তাই ভাবলাম আর কি! দুটো ফুচকা খেয়ে যায়। ইতিমধ্যে সেখানে উপস্থিত একটি মেয়ে সমানে কথা বলে যাচ্ছে ফুচকাওয়ালার কাকুর সাথে।

আহা!

আরে কাকু ! এত কম ঝাল দিলে হয় আরেকটু বেশি করে  দাও না। আহা! জলটাতে টক দাও বেশি করে ।মেয়েটির চোখ দিয়ে জল অঝরে পড়ছে তবুও সে আরো ঝাল খাওয়ার কথা বলছে। আমার বেশ মজাই লাগলো ওকে দেখে।

ইতিমধ্যে আমার বন্ধু কৌশিক বলে বসে- কাকু আমরা কিন্তু ঝাল অত খেতে পারব না ।আমার বন্ধুও খুব কম ঝাল খায়।আমি কিছু কথা বলার আগেই মেয়েটি বলে বসে

” ফুচকা আবার ঝাল ছাড়া ভালো লাগে না কি”!?আমি চুপ থাকলাম। কিছুক্ষণ পর কৌশিক উত্তর দিয়ে বলল-“না না আমরা ওসব পারি না।”

সাহস করে আমিও বলে বসলাম-

“আচ্ছা তাই তাহলে হয়ে যাক আজকে একটু বেশি ঝাল দিয়ে ফুচকা খাওয়া। “

দাও কাকু বেশ বেশি করে লঙ্কা চটকে দাও তো একটু দেখি।আমি আর ওই মেয়েটি পাল্লা দিয়ে ফুচকা খেতে লাগলাম।আমি পাঁচটার বেশি খেতে পারিনি, কিন্তু সে তখনো থামেনি।খাওয়া শেষে একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ হলাম।  বাকিটা পথ প্রায় একসাথে হাঁটলাম। গল্পের তাহলে কখন যে বাড়ির রাস্তায় চলে এসেছি লক্ষ করা হয়নি। মেয়েটিঃ আমাদেরকে শুভরাত্রি বলে তখনকার মতন বিদায় নিয়ে চলে যায়।

আমি ও আমার বন্ধু কৌশিক বাড়ির দিকে মুখ করতেই হঠাৎ মনে পড়ে – “যাহ! মেয়েটির নাম জানা হলো না”!

ওই রাত্রিতে বাড়িতে আসার পর কেন জানি না ঘুম আসছিলো না। আমি অনেক খুঁজেছিলাম মেয়েটিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিন্তু নাম না জানলে পাব কিভাবে?আমি রোজ ফুচকার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম।কিন্তু সেই মেয়েটিকে আমি আর দেখতে পেলাম না।একদিন হঠাৎ আমার বন্ধু কৌশিক আমাকে  ফোন করে বলল-

“হ্যাঁরে বিজয় ! তোর ওই মেয়েটার কথা মনে আছে?ওই  ফুচকার দোকানে দেখা হয়েছিল।”আরে হ্যাঁ কেন মনে থাকবে না – আমি বললাম।কৌশিক বলল –

“আরে আমি আমার বান্ধবী নেহার কাছে জানতে পারলাম যে ও নাকি ওর ক্লাসমেটক। ওর ফোনে আমি ওই মেয়েটির ছবি দেখেছিলাম। জিজ্ঞেস করায় ওই আমাকে একথা বলল।আমি বেশ কৌতূহল নিয়ে বললাম” এই মেয়েটার নাম কিরে?”

কৌশিক বলল- রিমঝিম।বাহ বেশ ভারী নাম তো।কৌশিকের ফোন রাখার পর আমি নেহা কে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম।সে রাতে নেহার সাথে কথোপকথন হয়।নেহার কাছে জানতে পারলাম সেই মেয়েটির কথা।মেয়েটি খুব ভালো। রূপে-গুণে সবদিকেই সে খুব ভালো এবং খুব মিশুকে ও।নেহার কাছ থেকে তার সমস্ত তথ্য জানার পর আমি রিমঝিম এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই। সে সাথে সাথে আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করে।তার সাথে কথোপকথন হয় খুব ভালোভাবে।কটা দিন যেতে না যেতেই আমার থেকে অভ্যাস হয়ে যায়।একদিন তাকে দেখা করতে বললাম।সে রাজি হয় এবং দেখা করে আমার সাথে।সেদিন আমি ভেবেছিলাম আমি তাকে আমার মনের কথাটা বলে দেবো।সে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় আমি ভীষন নার্ভাস হয়ে গেছিলাম।তার সাথে অনেকক্ষণ ধরে গল্প করার পর সে হঠাৎ আমাকে বলে বসে-” আমার ব্রেইন টিউমার আছে লাস্ট স্টেজ। আমি আর বেশি দিন এই পৃথিবীতে নেই। এই কয়েকদিনে তোমার সাথে এত ভালো বন্ধুত্ব হবে আমি ভাবতে পারিনি। তখন আমি হঠাৎ চুপ হয়ে গেলাম তাকে আমি আমার মনের কথা বলবো কি বলবো না সেটার চিন্তায় আমি মগ্ন হয়ে গেলাম।

আমি বেশ কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম- ” আচ্ছা তোমার শেষ ইচ্ছেটা কি আমি জানতে পারি?”সে বলল- ” বেশি কিছু না রাস্তার কুকুরদের একটু সেবা করতে চেয়েছিলাম। তা পূরণ হয়ে গেছে।”আমি বললাম – আর?মেয়েটি চুপ থাকল।হঠাৎ সে হেসে বললআর কি? সে ফুচকাও কাকুর কাছে বেশি করে ঝাল দিয়ে আমি অনেক গুলো ফুচকা খাওয়ার খুব ইচ্ছে।আমি তখন তাকে বললাম-ব্যাস এতোটুকুই ইচ্ছা চলো তবে।তুমি যতদিন আমার সাথে থাকবে আমি ততদিন তোমার সাথে ফুচকা পার্টনার হয়ে থাকবে।মেয়েটি বলল -“তোমাকেও কিন্তু ঝাল খেতে হবে, যাতে চোখ নাক দিয়ে জল পড়ে যায়।” কেমন?হ্যাঁ আমি রাজি। 

এভাবে কেটে যায় এক মাস। অবশেষে সে চিরকালের মতন ঘুমিয়ে যায়।সে যাওয়ার আগে আমাকে একটি ছোট্ট চিঠি দিয়ে গিয়েছিল।সেখানে শুধু লেখা ছিল -“প্রিয় ফুচকা পার্টনার,সারা জীবন কিন্তু ফুচকাটা একটু বেশি ঝাল দিয়েই খেয়েও। ফুচকার স্বাদটাই কিন্তু আলাদা লাগে।”            ইতি তোমার 

– ফুচকার পার্টনার।

5 3 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
5 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Arghya chandra sarkar
Arghya chandra sarkar
10 months ago

Darun hoyeche

TUSHAR
TUSHAR
10 months ago

Bah osshadharon……❤❤

Anangsha Choudhury
Anangsha Choudhury
10 months ago

❤️

Imon Biha
Imon Biha
10 months ago

Osadharon

Simran
Simran
10 months ago

Wah…..