মাধ্যমিক এর পর (Mādhyamika ēra para) | ARGHYA CH SARKAR

আমান এর আজ মাধ্যমিক শেষ। পরীক্ষা টা ভালই হয়েছে তার। সে বরাবরই মোটামুটি মানের ছাত্র। কিন্তু সে ঠিক করেনি অন্যদের মতো সে ভবিষ্যৎ এ কি করবে। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে হওয়ার কারণে তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তার মা বাবার। আমান কিন্তু চাইতো সে অন্যধরনের কিছু একটা করবে যেটা সবার দ্বারা হয় না। তার বাবা মা চাইতো আমান ডাক্তার হবে। তাই তাকে সাইন্স এর বইগুলো এনে দেয় তাকে। কিন্তু সে দেখেই বলে “এগুলো কেমন করে হবে আমার দ্বারা”। মা বাবা মাস্টার র তাকে বোঝায় যে সে পারবে। আমান এর সখ ছিল কবিতা লেখার গিটার বাজানো র। রেজাল্ট বেরোলো শেষ পর্যন্ত চাপে পড়ে তাকে সাইন্স নিতে হলো। আজ আমান ঘাড়ে একটা ভারী ব্যাগ চাপিয়ে নিয়ে পড়তে যায়। মনটা হাহাকার করে ওঠে তার কবিতার খাতার দিকে তাকিয়ে।

আমান এর কবিতা লেখা টা তার কাকুর কাছ থেকে পাওয়া। কাকু একজন স্বনামধন্য লেখক। তিনি বড্ড ভালো কবিতা লেখেন। তার অনেক বই ও প্রকাশিত হয়েছে। ছোট থেকেই আমান এর আইডল হলো তার কাকু। তাই তার দেখাদেখি প্রথম কবিতা লেখে আমান

আর্মি

জীবন আমার হাতের মুঠোয়

কখন যেনো ছেড়ে দেবে

কিন্তু ভয় নেই মনে

বন্দুক নিয়ে দাড়িয়ে থাকি

শীত গ্রীষ্ম আর বর্ষা হক

শত্রু দের নাশ করি

দূরে থাকি পরিবারের থেকে

মন করে আনচান

মন করে আনচান

কারণ ভারতমাতা আমার প্রাণ

হ্যাঁ আমিই আর্মি আমি বাঁচি

অন্যের বেঁচে থাকার জন্য

জীবনের যেনো একটাই লক্ষ্য

শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো অন্যের জন্য কাকু দেখে বড়ই খুশি হয়। বলে “আমান তোর কবিতা তে হাত আছে তুই লিখতে থাক তোর হবে”। আমান চেষ্টা করতে থাকে আরো লেখার। ধীরে ধীরে সে আরো ভালো কবিতা লিখতে শুরু করে। এমন দাড়ায় তাকে শুধু বিষয় দিতে হবে। সে বিষয়ে সে লিখে দেবে এই ছিল তার কেরামতি। সে স্কুল এ রীতিমতো খ্যাতি পেলো কবিতা লেখা নিয়ে। ক্লাস সেভেন এ থাকতে সে একটা কবিতা লিখে ফার্স্ট প্রাইজ পায়। সে কবিতাটা পাঠ ও করে স্কুল এ। কবিতাটি হলো

ক্লাসমেট

জামায় দাগ কালিটা নীল

স্কুল এর সেসব দিনে

একটা জামার বোতাম গেলে

কাজ চালাতো সেফটিপিন

সব কিছুর টাইমিং এক

যাবো একসাথে 

আসবো একসাথে

আমরাই হলাম ক্লাসমেট

কত স্মৃতি কত আড্ডা

ভুলবো নাকি সেটা

আমাদের ক্লাসমেট

 ব্যাচ সবটা ছিল সেরা♥️

সময় যেতে থাকে। মাধ্যমিক আসে। এরপর তার উপর চাপানো হয় সবচেয়ে বড়ো মিথ্যা টা। এই মিথ্যা টা হলো যে,”আর্টস এ কোনো ভবিষ্যৎ নেই,তুই সাইন্স নে”। সে বাবা মায়ের কথায় নিজের ইচ্ছে টাকে বিসর্জন দিয়ে দিল। সে যথা রীতি সাইন্স নিয়ে পরে। এভাবে ইলেভেন ক্লাস পার হয় আসে টুইলভ। টুইলভ এর মাঝখানে এসে সে বোঝে তার দ্বারা আর হচ্ছে না। তখন সে আবার লিখতে শুরু করে তার স্ট্রেস কমানোর জন্য। সে লেখে

সাইন্স

আমি একজন সাইন্স এর স্টুডেন্ট 

নেই আমার কোনো বন্ধুত্ব

সিলেবাস টা খুবই বড়ো

সময় টা কিন্তু ছোট।

কেমিস্ট্রি থেকে ফিজিক্স

সবকিছুই হলো কঠিন

নিয়ে ফেলেছি যখন

পড়তেই হবে এই মহানপ্রতিম। 

সত্যিই আমান এর সাইন্স এর কোনো বন্ধু ছিল না। যা ছিল সব আর্টস এর বন্ধু সব। তাদের উদ্দেশ্য করে একটা কবিতা লিখেছিল আমান

আর্টস

মাধ্যমিক টা শেষ আমার 

এখন কোন সাবজেক্টে নেই

পাড়ার কোনো দাদা দিদি বলে

সাইন্স নিয়ে নে ভাই

আর্টস কি ভালো না

কে বলেছে দাদা

দর্শন থেকে ভূগোল

সবকিছুই সাইন্স এর বড়ো বারাই

দর্শন কে বলে “ফাদার অফ সাইন্স”

তবে কেনো বলিস আর্টস ভালো নয় ভাই।

এভাবে ডিপ্রেশন এর মধ্যে তার দিন কাটে। শেষমেশ কোনমতে সে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ফার্স্ট ডিভিশন নিয়ে। বাবা মা খুবই বকা দেয়। বলে,” তোর এই রেজাল্ট এ কি হবে,তুই নাম ডুবিয়ে দিলি আমাদের”।এসব শুনে আরো সে মন থেকে ভেঙ্গে পড়লো। সে নিজেই ভাবলো আমি তো ভুলটা নিজেই করেছি। আরো একটা কারণ আছে যেটার জন্য সে আজ পর্যন্ত নিজেকে দোষ দেয়।সে একটা মেয়েকে ভালোবেসেছিলো।

অনেকদিন আগে তারা একসঙ্গে প্রাইভেট পড়ত আমান তখন থেকেই তার প্রেমে পড়েছিল। সে তার হাসিটা দেখে তার প্রেমে পড়েছিল। সময় কাটলো একসময় ছেলেটা তার স্ট্রিম চেঞ্জ করে সাইন্স নিল। মেয়েটি নিল আর্টস। স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে সংযোগ রইলো না। কিন্তু আমান তার নম্বর পেলো একদিন। তাদের মধ্যে অনেক কথা চললো। আমান ভাবতো মেয়েটিকে তার মনের কথাটা ভালো করে বলবে। কিন্তু সে বলতে পারে না । দিন কেটে যায়। আমান অতিষ্ঠ হতে থাকে। কিন্তু সে জানতো না তার সামনে কোন আসতে চলেছে। সে একদিন ঠিক করলো আজতো বলেই দেবে। আমান তার প্রাইভেট যাওয়ার আগে তাকে তার মনের কথা বলে দিল । তারপর এসে দেখলো সে রিপ্লাই এসেছে “তুই আমার বন্ধুর মতন” কথাটা শোনার পর ছেলেটার মাথা স্বাভাবিক ভাবেই খারাপ হলো। কিন্তু সে অনেক করে বোঝালো। সে জিজ্ঞেস করলো “তোর বয়ফ্রেনড আছে কি” সে জানালো না। ছেলেটি বলল তাহলে? উত্তরে মেয়েটা বললো “ওসব আমার দ্বারা হয়না”।আজ মেয়েটির বয়ফ্রেনড আছে। ছেলেটি আজও সিঙ্গেল । মেয়েটার বয়ফ্রেনড দেখতে বেশ ভালো।

এই সব বিষয়গুলো তার কাছে দুর্বিষহ হতে থাকে। পরিবার এর চাপ এ সে বেসরকারি থেকে ডাক্তারি পড়ে। যেটা তার একদমই ইচ্ছে ছিলো না। সে আজ ডাক্তার কিন্তু এখনও নাম করতে পারেনি। সে তার হাতখরচ ও চালাতে পারে না ঠিক মতন। তাই এসব থেকে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে সে তার পর একদিন সে ডিসিশন নিয়েই নেয় সে আত্মহত্যা করবে। কিন্তু সে পারে না কারণ মৃত্যু বেশি কঠিন তাই সে লেখে

কষ্ট

হ্যাঁ আমার কষ্ট হয়

কিন্তু সেটা প্রকাশ করলে

অন্যদের কষ্ট হয়

 হ্যাঁ আমার ও কষ্ট হয়।

আমি ছেলে 

আমার কষ্টের নেইজে 

কোনো দাম নেই কোনো আশ্বাস 

এই কষ্টের নেই যে কোনো সীমা।

ছোট থেকে কথা শুনি

বড়ো হয়ে হবি ডাক্তার 

হবি যে বড়ো অফিসার 

তুই তো পরিবার এর মুখ তার আশ্বাস ।

আমি ছেলে 

স্বপ্নের নেই যে কোনো দাম

আজ আছি কাল নেই

আজও পাইনি সন্মান।

হ্যাঁ একজন রিজেক্ট করলে

হয় যে ভীষন কষ্ট

মনের ভিতর জ্বলতে থাকে

হয়না কিছুই স্পষ্ট।

হ্যাঁ আমার ও আছে কষ্ট

 এই জিনিস লিখে সে বাড়ি ছেড়ে দেয়। আজও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

– অর্ঘ্য

5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
7 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
SUMAN ROY
SUMAN ROY
10 months ago

Balo hocha gopo ta

Aman
Aman
10 months ago

আস্ত আমার নামে একটা পুরো গল্প, তাও আবার প্রোটাগোনিস্টে! ব্রিলিয়ান্ট l বানান আর বাক্য গঠনে প্রচুর ভুল দেখলাম, সারিয়ে নিও l বেস্ট অফ লাক❤️

Arghya chandra sarkar
Arghya chandra sarkar
10 months ago
Reply to  Aman

ধন্যবাদ ধরিয়ে দেওয়ার জন্য। এমনি কেমন হয়েছে বল

Aman
Aman
10 months ago

ভালো হয়েছে দাদা ❤️

TUSHAR
TUSHAR
10 months ago

Bah…….

Arghya chandra sarkar
Arghya chandra sarkar
10 months ago
Reply to  TUSHAR

Thanks

Prabir sarkar
Prabir sarkar
10 months ago

সুন্দর হয়েছে!