খুন খারাপি | ARGHYA CH SARKAR

এক পথচারী হেঁটে যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে। তার মনে হচ্ছে কেউ যেনো তার পিছনে হাঁটছে তাকে অনুসরণ করছে। কিন্তু পিছনে তাকিয়ে সে কিছুই দেখেনা। হটাৎ তার মাথায় পড়লো এক বারি। সে মাটিতে পড়ে গেল। সে বুঝল তার সময় এসে গেছে । সে খুনীর কাছে আকুতি মিনতি করলো বার বার ” আমাকে মেরে ফেলো না ” কিন্তু……….. পরদিন অনিমেষ আর আমি বসে বসে চারমিনার এ টান দিচ্ছিলাম। আমি বলতে চয়ণ। বায়োলজি তে পড়াশুনা করে আপাতত বেকার। একটু সাহিত্যচর্চা করি। একটা পত্রিকায় নিয়মিত লিখি তাতে যা আয় হয় তাতে মাস চলে যায়। অনিমেষ একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ। ওয় এখনও পর্যন্ত 2 টো কেস সলভ করেছে। এখন ও একজন প্রতিষ্ঠিত ডিটেকটিভ। আমরা থাকি 2/4 মুখার্জী রোড,শিলিগুড়ি। তে আমরা খবর এর কাগজ পড়ছিলাম ” দৈনিক সংবাদ “। হটাৎ আমার চোখে একটা খবর পড়লো। খবর টা হলো ” পার্ক স্ট্রিট এর গলিতে খুন ” । আমি অনিমেষ কে কাগজ টা বাড়িয়ে দিলাম হাতে। অনিমেষ আমায় পরে সোনাতে লাগলো ” পার্ক স্ট্রিট এর গলিতে কাল একটা ভয়নক অথচ আশ্চর্য রকম খুন হয়েছে। যে খুন হয়েছে তার শরীরে চাকুর অনেকগুলো দাগ। কিন্তু আশ্চর্য রকম ভাবে খুনি লোকটার ডান পায়ের একটা আঙ্গুল কেটে নিয়েছে। খুনি এরকম কেনো করলো তা সন্মন্ধে সঠিক ধারণা করা যাচ্ছে না। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী খুন টা হয়েছে ঠিক আন্দাজ রাত 10টা। আপাতত মনে করা হচ্ছে খুনি একজন পাগল। এখনও পর্যন্ত এরকম আরো 3 টে খুন হয়চে। শহরে পুলিশ পাহারা থাকতেও এরকম হলে মানুষ চলবে কেমন করে। ” এই পর্যন্ত পড়ে অনিমেষ কাগজ টা রেখে আবার চারমিনার টা খেতে শুরু করলো। আমি বললাম কি বুঝলে। অনিমেষ বলে” মনে তো হচ্ছে পাকা হাতের কাজ কোনো উদেশ্য আছে নিশ্চই” আমি বুঝলাম ডান পায়ের আঙ্গুল কাটা আর গায়ে কাটা চিহ্ন এর দাগ কেস এর দিকে তাকে টেনেছে। হটাৎ করে ফোন বেজে উঠলো। ফোন এর ওপারে শ্রী কৃষ্ণ শঙ্কর মহাশয়। এনি আমাদের একজন পৃষ্টপোষক এবং পুলিশ এর বড়ো পদ এ আছেন। তিনি ফোন করে বললেন ” কি হে লব কুস কেমন চলছে ? ” অনিমেষ হেসে উত্তর দিল এই আছি আরকি ” খবর পড়েছ নিশ্চই, পড়েছ যখন শোনো যে মারা গেছে সে একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য। তারা পুলিশ এর উপর বিশ্বাস পাচ্ছেন না তাই গোয়েন্দা অ্যাসেস্ট করবেন তারা । আমার তোমার কথা মনে পড়লো হটাৎ করে। সো ইয়ং বয় চলে এসো কলকাতা দুইজন এই আসবে কিন্তু অনেকদিন চয়ন এর মুখের কবিতা শুনিনি । তবে তোমরা আসছো তো?” অনিমেষ বললো “হ্যাঁ আসছি আমরা “। সেইমতে বিকেলের ট্রেন এ চেপে আমরা পৌঁছলাম কলকাতায়। আমাদের থাকার জায়গা ঠিক হলো কৃষ্ণ বাবুর বাড়িতে। আমরা পরদিন বডি চেক করতে গেলাম। বডি তে দেখলাম অনেক কাটাকাটির দাগ । আর মাথায় একদম মাঝখানে গর্ত করা। এটা একটু আজব লাগলো আমার কাছে। এরপর বাড়িতে এসে খাওয়া হলো। আরাম কেদারায় বসে অনিমেষ ভাবতে লাগলো আমিও ভাবতে লাগলাম ব্যাপার টা। বাকি 3 টা লাশ এও একই অবস্থা মাথায় আজব ভাবে ফুটো রক্ত পড়ছে সেটা দিয়ে। অনিমেষ বললো “প্রথমে আমাদের মোটিভ টা ধরা দরকার। মহাভারত টা দাও ত আমায়”। কিছুদিন ধরে পৌরাণিক বা মাইথলজি এর উপর সে জোর দিয়েছে। সে পড়তে শুরু করলো । আমিও এদিকে নিজের কিছু কাজ সারছিলাম। হটাৎ করে সে চেঁচিয়ে ওঠে।বলে ” ওহে শোনো দেখো অশ্বত্থামা এর এই পার্ট টা দেখো এখানে কৃষ্ণের অভিশাপ সম্পর্কে লেখা আছে । অশ্বত্থামা এর মাথায় একটা মনি থাকতো সেরা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৃষ্ণের অভিশাপে খুলে যায়। সেখান থেকে রক্ত বেরোতে থাকে। কলিযুগ পর্যন্ত তার এই অভিশাপ। তার মানে এই নয় তো খুনি বোঝাতে চায় সে কৃষ্ণ সে সমাজ থেকে অভিশাপ প্রাপ্ত অশ্বত্থামা কে সরিয়ে দিতে চায়। মানে সে বোঝাতে চায় এরা ভুল করেছে অশ্বত্থামা এরা এদের মরতে হবে।” মোটিভ টা জানা গেছে। এরপর খুনি কে ধরতে সুবিধা হবে। প্রথমেই অনিমেষ কৃষ্ণ বাবু কে সব ভিকটিম দের মধ্যে কানেকশন খুঁজে বের করতে বললেন। কৃষ্ণ বাবু সেইমতে বের করলেন। দেখা গেলো সবাই একই জায়গায় কাজ করতো । কিন্তু তারা কেউ কাউকে চিনত না । তারা সবাই আলাদা আলাদা ডিপার্টমেন্ট এ কাজ করতো। যেখানে তারা কাজ করতো সেটা একটা বেসরকারি কোম্পানি। নাম হলো অশ্বত্থামা প্রাইভেট লিমিটেড। সেখানে গিয়ে আমি এবং অনিমেষ খোঁজ করে জানতে পারলাম যে তাদের ডিপার্টমেন্ট আলাদা তাদের যদিও বা কিছু মাত্র পরিচয় ছিল না তবুও তারা তাদের মৃত্যুর কিছুদিন আগেই তাদের মধ্যে আশ্চর্য পরিবর্তন দেখা গেছিলো। তারা সবসময় আজব আচরণ করতো বলতো ” আমার কেউ পিছু নেয়। কিছু একটা কৃষ্ণ বা অশ্বত্থামা কি যেনো বলতে থাকতো বিড়বিড় করতো সবসময়। এতটাই বদলে গেছিলো তারা যে কাজেও মন দিতে পারছিল না তারা । ” এই শুনে আমরা বেরিয়ে আসি। তাদের বাড়ির লোকদের সাথে কথা  বলতে যাই আমরা। সেখানে গিয়ে জানতে পারি যে সত্যিই তাদের আচরণ বদলে গেছিলো তাদের মৃত্যুর কিছুদিন আগে। এরপর কিছুদিন ধরে অনিমেষ ভাবতে থাকে কিভাবে ধরা যায় খুনি কে । এর মধ্যে আমাদের যোগাযোগ হলো তিলক বাবুর সাথে যিনি এই খুন হওয়া ভিকটিম সবার সাথে কানেক্টেড ছিলেন। তিনি একজন ভাগ্য গণকার। তিনিই এদের ভাগ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি বললেন এদের মধ্যে একটা জিনিষ কমন সেটা হলো এরা সবাই একটা বিশেষ লগ্ন কৃশ্চিক লগ্নে জন্মগ্রহণ করেছেন। আর এই লগ্নে জন্মানো মানুষদের ভাগ্য খুব একটা ভালো হয়না। এই লগ্নে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৃষ্ণ অশ্বত্থামা কে অভিশাপ দিয়েছিল। এইবার কানেকশন খুঁজে পাওয়া যেতে লাগলো । কিন্তু খুনি কে ? মোটিভ পাওয়া গেছে। আরো খোঁজ নেওয়া হলো জানা গেলো একজন কিছুদিন আগে এদের ফোন হ্যাক করে কখন এরা কোথায় যায় আর কল লিস্ট খুঁজেছে। কিন্তু খুনি কে ? মাস চলে যাচ্ছে কিন্তু খুনীর পাত্তা নেই । আমরাও এদিকে বিদায় নিচ্ছিলাম। পরদিন আমাদের ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন রাতেই একইভাবে খুন করা হয়েছে। আমরা আর যেতে পারলাম না । খুনি এবারে একটা ভুল করেছে খুনীর পকেট থেকে তার লাইটার টা পড়ে গেছে । আমাদের ডাকা হলো আমি গিয়ে লাইটার টা দেখলাম। আমার সন্দেহ হলো এটা তো অনিমেষ এর হয়। বাড়ি এসে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না নিজের চোখ মন দুটো কেই। আমি এরপর কেস টাকে সাজাতে থাকলাম। দেখলাম সব কিছু অনিমেষ এর দিকে ইশারা করছে। কারণ সে কয়েকমাস ধরেই  আজব আচরণ করছে। কখনও বাড়িতে থাকে না কোথায় যায় কিছুই বলে না । আরো অনেক আচরণ। আমি কৃষ্ণ বাবু কে সমস্ত টা জানলাম। এরপর অনিমেষ কে গ্রেপ্তার করা হলো। একটা ভুল অনিমেষ এর জন্য কাল হলো। যাইহোক অনিমেষ কে ডাক্তার দেখানো হলো। সে একটা জটিল মানসিক সমস্যায় ভুগছে । ডুয়াল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার। তাই তার চিকিৎসা চলছে । আজ এক বছর হতে চললো ঘটনার। আজও সে মেন্টাল হসপিটাল এ। আমি আজ এই গল্প টা লিখছি।……….

– অর্ঘ্য

4.8 4 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
8 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
TUSHAR SEN
TUSHAR SEN
7 months ago

❤❤❤❤

Simran Sen
Simran Sen
7 months ago

Khub vlo lglo 👌👌

Bibek Ray
Bibek Ray
7 months ago

ভালো , একত্রে ব্যোমকেশ এর অজিত , ফেলুদার চারমিনার এবং একটা আলাদা রস পেলাম এই ছোটো গোয়েন্দা গল্পে।
আশা করি আরো এমন পাওয়া যাবে গল্প

Arghya chandra sarkar
Arghya chandra sarkar
7 months ago
Reply to  Bibek Ray

Thanks

Anangsha Choudhury
Anangsha Choudhury
7 months ago

Awesome…